Summary
রাসায়নিক বিক্রিয়া বিবেচনা করতে রাসায়নিক সমীকরণ বোঝা প্রয়োজন। বিক্রিয়ায় দুইটি অংশ থাকে: বিক্রিয়ক পদার্থ এবং উৎপন্ন পদার্থ। বিক্রিয়ক পদার্থ হল প্রাথমিক অবস্থা এবং উৎপন্ন পদার্থ হল চূড়ান্ত অবস্থা। এতে পরমাণুর ধ্বংস বা সৃষ্টির পরিবর্তে পুনর্বিন্যাস ঘটে এবং পরমাণু সংখ্যা সমতা বজায় থাকে।
রাসায়নিক সমীকরণের জরুরি নিয়মসমূহ:
- বিক্রিয়ক পদার্থের সংকেতের পূর্বদিকে ও উৎপন্ন পদার্থের সংকেতের পরে লেখা হয়।
- একাধিক পদার্থের সংকেতের মধ্যে যোগ চিহ্ন (+) ব্যবহার করা হয়।
- অণুর সংখ্যা একাধিক হলে সংকেতের আগে সংখ্যা লেখতে হয়।
- সমান চিহ্ন (=) ব্যবহার করা হলে উভয়পক্ষের পরমাণুর সমতাকরণ প্রয়োজন।
- বিক্রিয়ার আগে এবং পরে মৌলের পরমাণুর সংখ্যা সমান হতে হবে, এজন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা দ্বারা গুণ করতে হয়।
যেমন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়া থেকে পানি উৎপন্ন হয়, যা এইভাবে প্রকাশ করা হয়: H2 + O2 → H2O। এখানে বিক্রিয়ার আগে ও পরে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের পরমাণুর সংখ্যা সমান রয়েছে।
যেকোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ার বিবরণ দিতে হলে আমাদের রাসায়নিক সমীকরণ সম্বন্ধে ধারণা থাকা অপরিহার্য। একটি রাসায়নিক বিক্রিয়াকে দুইটি অংশে ভাগ করা যায়। এক অংশে বিক্রিয়ক পদার্থ এবং অন্য অংশে বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন নতুন পদার্থ থাকে। যেমন-
বিক্রিয়ক পদার্থ হলো রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটনের পূর্বাবস্থা এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থ হলো রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটনের শেষ বা পরবর্তী অবস্থা। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনো পরমাণু ধ্বংস বা নতুন করে সৃষ্টি হয় না, পরমাণুর শুধু পুনর্বিন্যাস ঘটে। অতএব বিক্রিয়ার পূর্বে বিভিন্ন বিক্রিয়ক পদার্থে যতগুলো পরমাণু থাকে বিক্রিয়ার পরে বিভিন্ন বিক্রিয়াজাত পদার্থেও ততগুলো পরমাণু থাকে। ফলে বিক্রিয়ক দ্রব্য এবং উৎপন্ন দ্রব্যের মধ্যে পরমাণু সংখ্যার সমতা বিরাজ করে।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী বিক্রিয়কদ্রব্য এবং উৎপন্ন দ্রব্যকে প্রতীক, সংকেত ও কতগুলো চিহ্নের ( +, → বা =) সাহায্যে সংক্ষেপে প্রকাশ করা কে রাসায়নিক সমীকরণ বলে। যেমন :
রাসায়নিক সমীকরণ লেখার নিয়মগুলো নিম্নরূপ-
(১) রাসায়নিক সমীকরণে বিক্রিয়ক পদার্থ বা পদার্থগুলোর স্ব স্ব প্রতীক বা সংকেত সমীকরণটির তীর চিহ্নের (—) বামদিকে লিখতে হয়। বিক্রিয়াজাত পদার্থ বা পদার্থগুলোর স্ব স্ব প্রতীক বা সংকেত সমীকরণটির তীর চিহ্নের (—) ডান দিকে লিখতে হয়।
(২) বিক্রিয়ক ও বিক্রিয়াজাত পদার্থ একাধিক হলে তাদের সংকেতের মধ্যে যোগ চিহ্ন (+) দেওয়া হয়।
(৩) কোনো পদার্থের অণুর সংখ্যা একাধিক হলে অণুর সংকেতের আগে সেই সংখ্যা লেখা হয়।
(৪) বিক্রিয়ক এবং বিক্রিয়াজাত পদার্থগুলোর মধ্যে তীর চিহ্নের পরিবর্তে সমান চিহ্ন ও (=) বসানো যায়। তবে এক্ষেত্রে উভয়পক্ষের পরমাণুর সমতাকরণ প্রয়োজন।
(৫) বিক্রিয়ার আগে বিভিন্ন পদার্থের অণুর মধ্যে যত সংখ্যক বিভিন্ন মৌলের পরমাণু থাকে, বিক্রিয়ার পরে গঠিত নতুন অণুগুলোর মধ্যে ঠিক তত সংখ্যক বিভিন্ন মৌলের পরমাণু থাকতে হবে। তাই সমীকরণের উভয় পক্ষে মৌলের পরমাণু সংখ্যার সমতা আনার জন্য প্রতীক ও সংকেতগুলোকে প্রয়োজনীয় সংখ্যা দ্বারা গুণ করতে হয়।
রাসায়নিক সমীকরণের সমতাকরণ
হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় পানি উৎপন্ন হয়। সুতরাং সমতা চিহ্নের বামদিকে বসবে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন অণুর সংকেত এবং ডানদিকে বসবে বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন পদার্থ পানির অণুর সংকেত। সুতরাং বিক্রিয়াটিকে নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করা যায়-
কিন্তু বিক্রিয়ার আগে যত সংখ্যক H পরমাণু এবং O পরমাণু থাকে বিক্রিয়ার পরেও বিক্রিয়াজাত পদার্থে তত সংখ্যক H এবং O পরমাণু থাকা উচিত। তাই বিক্রিয়ার সমতা স্থাপনের জন্য অণু, অণু ও অণুর সংখ্যা এবং সমীকরণ হবে নিম্নরূপ-
এই সমীকরণ থেকে বিক্রিয়ার পূর্বে এবং বিক্রিয়ার পরে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের মোট পরমাণুর সংখ্যা গণনা করা যায়। বোঝার সুবিধার্থে উপরের সমীকরণটিকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হলো-
সুতরাং উপরের সমীকরণে বিক্রিয়ার আগের পরমাণুর সংখ্যা এবং বিক্রিয়ার পরের পরমাণুর সংখ্যা সমান।
Read more